দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী এবং উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন). মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর. আজ সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন. তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন জানান, তিনি আজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন. মৃত্যুকালে তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন.
স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর নিউমোনিয়াজনিত তীব্র শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং নানাবিধ শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তোফায়েল আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই প্রভাবশালী সদস্য দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন, যার একপর্যায়ে তিনি তাঁর স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা ও বাকশক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেন. হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে কয়েক বছর ধরে তিনি হুইল চেয়ারে চলাচল করতেন এবং জীবনের শেষ প্রায় দুই বছর তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন. সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন.
ভোলার এই কৃতি সন্তান ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে সফলভাবে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেন. তিনি ১৯৯৬ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন. বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পালন করা তোফায়েল আহমেদ তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে মোট নয় বার জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন. তাঁর এই প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে.


















