পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘লাভ ট্যাপ’ বা ‘ভালোবাসার টোকা’ বলে অভিহিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ মে) গভীর রাতের এই সংঘাতের পর ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানি হামলার জবাবে তাঁরা পাল্টা আঘাত হেনেছেন এবং ইরানি নৌকাগুলো ‘প্রজাপতির মতো’ সমুদ্রে তলিয়ে গেছে। তবে এত উত্তেজনার মাঝেও ট্রাম্পের দাবি— দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে এবং শান্তি আলোচনা ‘খুব ভালো’ চলছে। যদিও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান চুক্তি স্বাক্ষর না করলে ভবিষ্যতে আরও সহিংস আঘাত করা হবে।
দাবি ও পাল্টা দাবির সংঘাত গোলাগুলির সূত্রপাত নিয়ে দুই দেশই একে অপরকে দোষারোপ করছে। ইরানের সামরিক কমান্ডের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র কোনো উসকানি ছাড়াই তাদের একটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং উপকূলীয় এলাকা যেমন বন্দর খামির, সিরিক ও কেশম দ্বীপে আকাশপথে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর জবাবে ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়ে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতি’ করার দাবি করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার যখন প্রণালী অতিক্রম করছিল, তখন ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়, যা তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
আঞ্চলিক প্রভাব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বর্তমানে যখন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিংয়ে কৌশলগত বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করছেন, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। আজই ইস্টার্ন রিফাইনারি সৌদি আরব থেকে আসা তেল নিয়ে উৎপাদন শুরু করেছে, কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে এই ধরণের সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ। এছাড়া পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর ও মিরপুর টেস্টের ডামাডোলের মাঝে বৈশ্বিক এই রণহুঙ্কার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি


















