প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বুধবার প্রবাসী ভবনে আয়োজিত অভিবাসী সম্মেলনে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এবং দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার দেওয়া কঠোর শর্তগুলোর কারণে শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছে। মালয়েশিয়ার ১০টি শর্তের সবকটি মানলে বাংলাদেশের অধিকাংশ এজেন্সিই অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই সংকট কাটাতে সরকার শর্তগুলো সমন্বয় করে ৪২৩টি যোগ্য এজেন্সির একটি তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, দুই দেশের চলমান আলোচনা ফলপ্রসূ হলেই কেবল এই বাজারটি পুনরায় উন্মুক্ত হবে।
এজেন্সির সক্ষমতা ও তদবির সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দেশে প্রায় দুই হাজার অনুমোদিত এজেন্সি থাকলেও অনেকগুলোরই কাজ করার মতো পর্যাপ্ত যোগ্যতা নেই এবং কিছু প্রতিষ্ঠান প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে কম্বোডিয়ায় কর্মী পাঠানোর ফাইল নিয়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল থেকে আসা ব্যাপক তদবিরের বিষয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশের ১১০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) অনেকগুলোতেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণার্থী নেই, তবুও রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন নতুন সেন্টার স্থাপনের জন্য ডিও লেটার বা সুপারিশ আসছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন কেবল চাহিদাসম্পন্ন এলাকাগুলোতেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বর্তমানে যখন ওপার বাংলায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে এবং তামিলনাড়ুতে বিজয়-যুগের সূচনা হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের জন্য রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজই বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করছেন এবং অর্থমন্ত্রী সমরখন্দে উজবেকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি বিমান সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন। এই বৈশ্বিক সংযোগের সময়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশে কর্মী পাঠানো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ শক্ত করতে অপরিহার্য।


















