ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের আবহে এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২২ এপ্রিল) নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি এই ঘোষণা দেন। মূলত মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধ এবং কূটনৈতিক পথকে আরও সময় দেওয়ার লক্ষ্যেই ট্রাম্প তাঁর আগের হার্ডলাইন অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিশেষ অনুরোধে তিনি এই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে রাজি হয়েছেন।
- শর্তযুক্ত বিরতি: ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যতক্ষণ না একটি ‘একত্রিত প্রস্তাব’ (Unified Proposal) দিচ্ছে এবং আলোচনা শেষ না হচ্ছে, ততক্ষণ এই বিরতি বজায় থাকবে।
- অবরোধ জারি: যুদ্ধবিরতি বাড়ালেও হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ আগের মতোই কঠোরভাবে বজায় থাকবে।
- সামরিক প্রস্তুতি: তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘Ready and Able’ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আলোচনা ব্যর্থ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ
ইরান এখন পর্যন্ত এই ঘোষণার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন নৌ-অবরোধকে ‘যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন’ এবং ‘একটি যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
- আস্থার সংকট: তেহরান বলছে, একদিকে অবরোধ রাখা এবং অন্যদিকে আলোচনার কথা বলা মূলত ‘আত্মসমর্পণ’-এর নামান্তর।
- সামরিক চমকের হুঁশিয়ারি: ইরানের আধা-সরকারি সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে তারা ‘নতুন চমক’ (New Surprises) দেখাতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও আন্তর্জাতিক স্বস্তি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইসলামাবাদে আয়োজিত দ্বিতীয় দফার আলোচনা বা ‘ইসলামাবাদ টকস’-এর মাধ্যমে এই সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই পদক্ষেপকে বিশ্ব শান্তির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন মূলত আন্তর্জাতিক চাপ এবং যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে হতে পারে। স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিনের মতে, যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশামতো এগোচ্ছে না এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের সংকটের যে প্রভাব পড়ছে, তা সামাল দিতেই এই সময় নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রঃ আল-জাজিরা



















