দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (১১ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও সংক্রমণের পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
১. গত ২৪ ঘণ্টার চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শেষ এক দিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে:
- মৃত্যু: মোট ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪ শিশুর মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে এবং বাকি ৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
- নতুন রোগী: গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,২৬৮ শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫০ জনের।
২. সামগ্রিক পরিসংখ্যান (১৫ মার্চ – ১২ এপ্রিল)
গত এক মাসে দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে:
- মোট মৃত্যু: নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ২৮ শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে।
- আক্রান্তের হার: এখন পর্যন্ত মোট ২,৬৩৯ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
- হাসপাতালের অবস্থা: সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা ১০,২২৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭,৬৫৬ শিশু।
৩. টিকাদান ও সরকারি উদ্যোগ
হামের এই হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
- বিশেষ টিকাদান: আজ ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে বিশেষ হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
- দেশব্যাপী কর্মসূচি: আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হবে।
- স্বাস্থ্য সচিবের বক্তব্য: স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, গত চার বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা স্থবিরতা থাকায় এই শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমানে দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই।
৪. অভিভাবকদের প্রতি জরুরি পরামর্শ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কিছু বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
- টিকা গ্রহণ: যদি কোনো শিশুর আগে টিকা দেওয়া থাকে, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে পুনরায় এই টিকা দেওয়া যাবে।
- অসুস্থতা: শিশু যদি বর্তমানে তীব্র জ্বরে আক্রান্ত থাকে বা অন্য কোনো জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি থাকে, তবে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে টিকা দেওয়া যাবে না।
- দ্রুত চিকিৎসা: শিশুর শরীরে লালচে দানা, তীব্র জ্বর বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে আজ থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু হওয়ার কারণে শিশুদের বাইরে যাতায়াত কমেছে, যা সংক্রমণের বিস্তার রোধে কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।



















