যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হতে চলেছে। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হুমকির মুখে পাকিস্তানে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার সন্ধ্যার (ওয়াশিংটন সময়) পর আর বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে মেয়াদের পরপরই ইরানে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু হতে পারে। যদিও তিনি যোগ করেছেন যে, কোনো ‘খারাপ চুক্তি’ সই করার জন্য তিনি তাড়াহুড়ো করবেন না। পিবিএস নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে সেখানে ‘প্রচুর বোমা পড়বে’।
ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, “হুমকির মুখে বসে কোনো আলোচনা হবে না।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তেহরানের কাছে দেখানোর মতো ‘নতুন কার্ড’ বা সামরিক চমক রয়েছে, যার প্রস্তুতি তারা গত দুই সপ্তাহ ধরে নিচ্ছেন। মূলত ১৯ এপ্রিল ওমান উপসাগরে ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ মার্কিন বাহিনী জব্দ করার পর থেকেই এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।
বর্তমানে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, ইরান শেষ মুহূর্তে রাজি হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদলটি আজ মঙ্গলবার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারে। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ট্রাম্প প্রশাসনকে জনসমক্ষে কঠোর ভাষা ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করেছে, কারণ এতে কূটনৈতিক পথ রুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তির একটি প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে উভয় পক্ষ একমত হলেও ট্রাম্পের প্রকাশ্য ‘চরমপন্থী’ অবস্থান পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনা সফল হয় নাকি রণক্ষেত্রে আবারও কামানের গর্জন শোনা যায়, তা দেখার জন্য বিশ্ব এখন বুধবার সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে আছে।
সূত্র: এনডিটিভি



















