দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দেড়শ বছরের পুরোনো বগুড়া পৌরসভাকে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া পৌর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন ঘোষণা ও ফলক উন্মোচন করেন। এর মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি নতুন প্রশাসনিক মর্যাদায় উন্নীত হলো। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী পৌরসভা চত্বরে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করলাম। এখন আপনাদের দায়িত্ব নিজেদের শহরকে পরিষ্কার রাখা। আমি আসার পথে অনেক জায়গায় ময়লা দেখেছি। আপনারা আপনাদের শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন; প্রশাসন আপনাদের সহযোগিতা করবে।” অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জেলা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বগুড়ার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন পৌরসভাটি দীর্ঘকাল ধরে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৬ সালে এর আয়তন বাড়িয়ে ৬৯.৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করার পর থেকেই সিটি করপোরেশনের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। নতুন এই মর্যাদার ফলে এখন থেকে বড় পরিসরে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল নাগরিক সেবা প্রদানের পথ প্রশস্ত হবে। স্থানীয় নাগরিকদের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে শহরের দীর্ঘদিনের যানজট ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটিই তারেক রহমানের প্রথম সফর। এদিন তিনি কেবল সিটি করপোরেশন ঘোষণাই নয়, বরং জজ আদালতে ‘ই-বেইল বন্ড’ সেবারও উদ্বোধন করেন। দিনের পরবর্তী অংশে গাবতলী উপজেলায় খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে। বিকেলে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এই ঐতিহাসিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো বগুড়া শহরে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।



















