শনিবার , ২১ মার্চ ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

যুদ্ধের ছায়ায় ম্লান মধ্যপ্রাচ্যের ঈদ: আনন্দ নয়, বেঁচে থাকাই যেখানে উৎসব

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মার্চ ২১, ২০২৬ ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে এখন বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের ঘনঘটা। ইরান, গাজা এবং লেবাননের সাধারণ মানুষের কাছে এবারের ঈদুল ফিতর কোনো উৎসবের বার্তা নিয়ে আসেনি; বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। অর্থনৈতিক ধস, অবিরাম বোমাবর্ষণ আর বাস্তুচ্যুত হওয়ার অনিশ্চয়তায় ঈদের চিরচেনা আনন্দ যেন হারিয়ে গেছে ধ্বংসস্তূপের নিচে। আজ শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে এই অঞ্চলের মানুষের চরম মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র।

অবরুদ্ধ লেবানন ও বাস্তুচ্যুতদের হাহাকার:

  • খোলা আকাশের নিচে ঈদ: বৈরুতের একসময়ের বিলাসবহুল ‘ডাউনটাউন ওয়াটারফ্রন্ট’ এলাকা এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের তাবুর শহরে পরিণত হয়েছে। দাহিয়েহ থেকে আসা শরণার্থী আলাআ জানান, তাঁর কাছে ঈদের চেয়ে একটি তাবু জোগাড় করা এখন বড় উৎসব। লেবাননে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
  • অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ: বৈরুতের কর্নিশ থেকে শুরু করে স্কুল প্রাঙ্গণ—সবখানেই এখন কেবল আশ্রয়ের খোঁজ। ১ হাজারের বেশি প্রাণহানির পর লেবাননের মানুষের কাছে ঈদ এখন কেবলই ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ মাত্র।

ইরান: যুদ্ধের আঘাত ও অর্থনৈতিক সংকট:

  • বাজার ও জনজীবন বিধ্বস্ত: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার তৃতীয় সপ্তাহে থাকা ইরানে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা শূন্যের কোঠায়। তেহরানের ঐতিহ্যের প্রতীক ‘গ্র্যান্ড বাজার’ বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কেনাকাটার পরিবেশও নেই।
  • ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মেরুকরণ: অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ইরানে এবার ধর্মীয় আচার পালনেও অনীহা দেখা গেছে। অনেকেই সরকারের প্রতি ক্ষোভ থেকে ধর্মীয় উৎসব এড়িয়ে নওরোজ বা পারস্য নববর্ষ উদযাপনে বেশি মনোযোগী হয়েছেন।

গাজা: ধ্বংসস্তূপের মাঝে বেঁচে থাকার লড়াই:

  • আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য: গাজা সিটির বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী খালেদ দিব জানান, বাজারে ফলমূল বা সবজির দাম এখন নাগালের বাইরে। ২ বছরের টানা যুদ্ধে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় শিশুদের নতুন পোশাক বা খেলনা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছেন বাবা-মায়েরা।
  • মৌলিক চাহিদার অভাব: তিন সন্তানের জননী শিরীন এখন প্লাস্টিক ও কাঠের তৈরি জরাজীর্ণ ঝুপড়িতে ঈদ কাটাচ্ছেন। তাঁর মতে, যেখানে দুবেলা খাবার জোগাড় করা যুদ্ধ, সেখানে ঈদের আনন্দ এক অলীক কল্পনা।

এত কিছুর মাঝেও বৈরুতের গবেষক করিম সাফিয়েদিনের মতো কেউ কেউ আশার আলো খুঁজছেন। তাঁদের মতে, এই চরম দুর্দিনেও পারিবারিক সংহতি ও সামাজিক বন্ধনই ফিলিস্তিনি বা লেবাননের মানুষকে টিকে থাকার শক্তি জোগাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই হয়ে উঠেছে এবারের ঈদের মূল তাৎপর্য।

সূত্র: আল-জাজিরা 

সর্বশেষ - অপরাধ