মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী সারাওয়াক প্রদেশের প্রধানমন্ত্রী দাতুক পাতিঙ্গি আবাং হাজি আব্দুর রহমান যোহারির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রদেশের রাজধানী কুচিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও সারাওয়াকের মধ্যে কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিশেষ করে শ্রমিক অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই পক্ষই পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।
হাইকমিশনার বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ ও কৃষি খাতের সক্ষমতার কথা তুলে ধরলে সারাওয়াক প্রধানমন্ত্রী নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সারাওয়াকের উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। বিশেষ করে, সারাওয়াকের ক্রমবর্ধমান শ্রমচাহিদা মেটাতে আরও বেশি দক্ষ, অর্ধদক্ষ ও সাধারণ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রস্তাবে তিনি নীতিগত সম্মতি প্রদান করেছেন। অভিবাসন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
বৈঠকে সৌরশক্তিসহ টেকসই ও সবুজ প্রযুক্তির জ্ঞান বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কৃষি খাতেও সহযোগিতার জন্য পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে কথা হয়। বৈঠকে সারাওয়াক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ডেপুটি মন্ত্রী দাতুক গেরাওয়াত গালাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে হাইকমিশনার মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং ফেডারেশন (এফএমএম) এবং সারাওয়াক বিজনেস ফেডারেশনের (এসবিএফ) সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন, যেখানে বাংলাদেশ ও সারাওয়াকের মধ্যে শক্তিশালী ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। এই সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার এই বৃহত্তম প্রদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও বাণিজ্যিক সুযোগ আরও প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


















