ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ পরিকল্পনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব এবং হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে এমন শঙ্কায় ট্রাম্প প্রশাসনকে অবরোধ তুলে নিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই অঞ্চলে অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা এখন বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে ইরানের সকল বন্দরে নৌ-অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দেন। সৌদি আরব মনে করছে, এই কঠোর পদক্ষেপ ইরানকে আরও ক্ষুব্ধ করবে এবং তারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। লোহিত সাগরের এই পথটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লাইফলাইন। যদি এই পথটিও বন্ধ হয়ে যায়, তবে রিয়াদের বিকল্প রপ্তানি রুটগুলোও অকেজো হয়ে পড়বে, যার প্রভাব সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়বে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের ধকল কাটিয়ে সৌদি আরব মরুভূমি পাড়ি দিয়ে বিকল্প পথে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তবে ইরান ইতোমধ্যে তাদের সক্ষমতা দেখিয়েছে যে তারা চাইলেই আঞ্চলিক নৌপথগুলোতে প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় মিত্ররা ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, উত্তেজনা প্রশমিত না হলে পুরো অঞ্চলের অবকাঠামো এবং বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়বে, যা তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো অস্থিতিশীলতাকে আরও উসকে দেবে।



















