ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশে কোনো ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হয়নি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ও বর্তমান পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নিরাপত্তা পরিস্থিতি
খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এখন পর্যন্ত ইরান থেকে উৎক্ষেপিত কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন আমিরাতের আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি। দীর্ঘ উত্তেজনার পর এটি দেশটিতে এক ধরণের স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে।
২. ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান
ইরানের হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নজিরবিহীন সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে:
- প্রতিহত করা হয়েছে: ৫৩৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৬টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২৫৬টি ড্রোন।
- হতাহত: দীর্ঘ এই সংঘাতকালে দেশটিতে মোট ১৩ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন।
৩. পরবর্তী পদক্ষেপ: ইসলামাবাদ বৈঠক
গত বুধবার (৮ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই যুদ্ধবিরতির মূল লক্ষ্য হলো আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো।
- শান্তি আলোচনা: আগামী শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনায় বসবেন।
৪. হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব
আকাশসীমায় উত্তেজনা কমলেও সমুদ্রপথে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চীনের তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর যাতায়াত এবং ইরানের নৌবাহিনীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করার ঘোষণার ফলে শিপিং কোম্পানিগুলো পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। তবে আমিরাতের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত না হওয়াকে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতার একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী শনিবারের ইসলামাবাদ বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা চিরস্থায়ীভাবে কমবে কি না।
সূত্র: খালিজ টাইমস



















