জ্বালানি সাশ্রয় এবং শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত করার লক্ষ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানীর দনিয়া কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই নতুন মডেলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম যেভাবে পরিচালিত হবে:
১. সাপ্তাহিক ক্লাসের রুটিন
শিক্ষার্থীরা এখন থেকে সপ্তাহে তিন দিন বাড়িতে বসে অনলাইনে এবং তিন দিন সরাসরি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেবে।
| দিন | ক্লাসের ধরন | স্থান |
| শনিবার | অফলাইন | সরাসরি স্কুলে উপস্থিতি |
| রবিবার | অনলাইন | বাড়িতে বসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে |
| সোমবার | অফলাইন | সরাসরি স্কুলে উপস্থিতি |
| মঙ্গলবার | অনলাইন | বাড়িতে বসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে |
| বুধবার | অফলাইন | সরাসরি স্কুলে উপস্থিতি |
| বৃহস্পতিবার | অনলাইন | বাড়িতে বসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে |
উল্লেখ্য: শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে বলবৎ থাকবে।
২. কেন এই সিদ্ধান্ত?
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগের ফলে বেশ কিছু সুফল পাওয়া যাবে:
- জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়: সপ্তাহে তিন দিন স্কুলগামী যানবাহনের চাপ কমলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং বিদ্যুৎ খরচ কমবে।
- যানজট নিরসন: রাজধানীর তীব্র যানজট কমাতে এই ‘হাইব্রিড’ মডেল অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি: শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করতে অনলাইন শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
৩. শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ক্লাস যেন কেবল নামমাত্র না হয়, সেজন্য কঠোর তদারকি করা হবে।
- যৌথ উদ্যোগ: এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউনিসেফ একত্রে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।
- তদারকি: শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং ক্লাসের মান নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
৪. কাদের জন্য প্রযোজ্য?
প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে। গ্রামীণ বা মফস্বল এলাকার স্কুলগুলোতে যেখানে ইন্টারনেট অবকাঠামো এখনো দুর্বল, সেখানে আপাতত পুরনো পদ্ধতিতেই (সরাসরি ক্লাস) পাঠদান অব্যাহত থাকবে।
আগামী সপ্তাহ থেকেই এই নতুন সময়সূচি কার্যকর করার প্রস্তুতি নিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



















