বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের একটি উড়োজাহাজে ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে চরম অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সংস্থাটির এক অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটে এই ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজটিই ব্যবহার করা হয়েছিল। উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, উড়োজাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্স ধ্বংস হওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সেটিকে উড্ডয়নের অনুমতি দিয়েছিলেন। এমনকি ১০ ডিসেম্বরের একটি জটিল রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র আড়াই ঘণ্টায় শেষ করা হয়েছে, যা বোয়িংয়ের মানদণ্ড অনুযায়ী একেবারেই অসম্ভব।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, উড়োজাহাজটির একই যান্ত্রিক ত্রুটি (ভিএফএসজি বিকল হওয়া) ১৫ দিনের মধ্যে তিনবার দেখা দিলেও তা স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী ফ্লাইটে মাঝ আকাশে পুনরায় এই সমস্যা দেখা দিলেও পরবর্তী ভিভিআইপি ফ্লাইটের জন্য বিমানটিকে ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এই অব্যবস্থাপনা ও ত্রুটিপূর্ণ মেরামতের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এক বিমানের যন্ত্রাংশ অন্যটিতে লাগানো এবং জরুরি ভিত্তিতে যন্ত্রাংশ আমদানির নামে এই বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটি এই চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য বিমানের দুই প্রকৌশলী—হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ফ্লাইট ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি একটি বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে স্পর্শকাতর এই ইস্যু নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেনি।



















