যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যে অভিযান শুরু করেছে, আজ শনিবার (৭ মার্চ) তা সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে দফায় দফায় বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের একটি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে হামলার সময় ডেপুটি চিফ অব স্টাফ আলি-আসগর হেজাজি নিহত হয়েছেন। এর আগে গত শনিবার অভিযানের প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর চাউর হয়েছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে তারা ৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং ইরানের অন্তত ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর আওতায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের মিত্রদের ওপর নজিরবিহীন হামলা চালাচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড (IRGC) দাবি করেছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন THAAD রাডার ব্যবস্থা এবং কাতারের FPS-132 রাডার ধ্বংস করেছে। এছাড়া কুয়েতের আলি আল-সালেম এবং জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার রাতে ইরান তাদের ‘খোররামশার-৪’ মিসাইল ব্যবহার করে ইসরায়েলের তেল আবিব ও হাইফার সামরিক স্থাপনা টার্গেট করেছে, যার ফলে ইসরায়েলজুড়ে সারারাত সাইরেন বাজতে শোনা গেছে। ইরাকের বসরাতেও বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোর আবাসস্থলে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
চলমান এই যুদ্ধে তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকাগুলো বারবার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার আহ্বান জানালেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া যুদ্ধ থামবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।



















