রবিবার , ৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

এক-এগারো ও বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার: নেপথ্য কুশীলব ও অভিন্ন নীলনকশা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৪:১০ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির (এক-এগারো) পটপরিবর্তন এবং বিগত দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকাল—এই দুই সময়ের ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উভয় ক্ষেত্রেই মূল কুশীলব ও তাদের লক্ষ্য ছিল প্রায় অভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এক-এগারোর সেই ‘অসম্পূর্ণ নীলনকশা’ বাস্তবায়নের জন্যই একটি নির্দিষ্ট সুশীল গোষ্ঠী এবং বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট ব্যক্তিরা গত ১৮ মাস ধরে সক্রিয় ছিলেন।

নিচে এক-এগারো এবং বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের যোগসূত্র ও মূল কুশীলবদের ভূমিকা তুলে ধরা হলো:

১. মূল কুশীলব ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু

  • ড. মুহাম্মদ ইউনূস: এক-এগারো সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তিনি ছিলেন প্রথম পছন্দ। তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের ভাষ্যমতে, দুই বছর সময় যথেষ্ট নয় বলে তিনি তখন প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে ২০২৫-২৬ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি সেই দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করেন।
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন: এক-এগারোর বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার, যিনি বিএনপি ভাঙার প্রক্রিয়ায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।
  • ড. বদিউল আলম মজুমদার: এক-এগারোর সময় রাজনৈতিক সংস্কারের নামে ‘বিরাজনীতিকরণ’-এর অন্যতম রূপকার। তিনি ইউনূস সরকারের সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।
  • সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: এক-এগারোর সময় সক্রিয় এই ব্যক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচন ছাড়াই দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২. মাইনাস ফর্মুলা ও সংবাদপত্রের ভূমিকা

দুই সময়ের যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেছে সুশীল সমাজের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দুটি প্রধান সংবাদপত্র।

  • মাইনাস টু ফর্মুলা: ২০০৭ সালে “দুই নেত্রীকে সরে যেতেই হবে” শীর্ষক সম্পাদকীয়র মাধ্যমে রাজনীতিবিবদের চরিত্রহনন ও বিরাজনীতিকরণের সূচনা করেছিল এই পত্রিকা দুটি।
  • সংস্কার বনাম নির্বাচন: গত দেড় বছর ধরে “নির্বাচন নয়, আগে সংস্কার” এবং “জনগণ আমাদের ৫০ বছর ক্ষমতায় দেখতে চায়”—এ ধরনের বয়ান তৈরির মাধ্যমে তারা জনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।
  • মাহফুজ আনাম: ড. ইউনূসের ‘নাগরিক শক্তি’ দল গঠনের উদ্যোগে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি।

৩. আন্তর্জাতিক যোগসূত্র ও ষড়যন্ত্রের রূপরেখা

বিশ্লেষকদের মতে, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর থেকেই বাংলাদেশে একটি অনির্বাচিত সুশীল সরকার বসানোর পরিকল্পনা শুরু হয়।

  • নোবেল পুরস্কার ও রাজনীতি: ২০০৬ সালে ড. ইউনূসকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদানকে অনেকেই এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তাঁর ‘মাই লাইফ’ গ্রন্থে ইউনূসের জন্য সুপারিশ করার কথা স্বীকার করেছেন।
  • বিদেশি তাঁবেদারি: এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনীতিকে বিদেশনির্ভর করা এবং দেশকে বিদেশি শক্তির স্বার্থে পরিচালনা করা।

৪. ব্যর্থতা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়

  • ফখরুদ্দীন সরকার: দুই বছরের শাসনামলে দেশকে অন্তত ১০ বছর পিছিয়ে দিয়েছিল।
  • ইউনূস সরকার: গত দেড় বছরে দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা এবং বিরাজনীতিকরণ ষড়যন্ত্রের ফলে বাংলাদেশ আরও ২০ বছর পিছিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

৫. বর্তমান পদক্ষেপ ও বিচার প্রক্রিয়া

নির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এক-এগারোর ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

  • গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ: সেনাবাহিনীতে থাকা তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
  • সুশীল সমাজের তদন্ত: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল সামরিক কর্মকর্তাদের বিচার করলেই হবে না, এক-এগারোর মূল হোতা সুশীল সমাজের সেই অংশকেও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

পরিশেষে, গণতন্ত্র রক্ষা এবং ভবিষ্যতে অবৈধ ক্ষমতা দখলের পথ চিরতরে বন্ধ করতে এক-এগারো থেকে শুরু করে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার পর্যন্ত যারা বিরাজনীতিকরণ ও ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ছিল, তাদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সর্বশেষ - অপরাধ