অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনে রূপান্তরের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদ। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জানানো হয়েছে যে, মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন দুই সেশনে সংসদ অধিবেশন চলবে।
এই বিশেষ পদক্ষেপের মূল কারণ ও সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সেশন বা অধিবেশনের সময়সূচি
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম সংসদে জানান, বিপুল সংখ্যক বিল পাসের কাজ দ্রুত শেষ করতে আগামীকাল থেকে অধিবেশন দুই ভাগে বিভক্ত থাকবে:
- প্রথম সেশন: প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে।
- দ্বিতীয় সেশন: প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হবে।
২. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও অগ্রাধিকার
সংবিধান অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল আকারে পাস করতে হয়।
- ১৩৩টি বিল: এই বিশাল সংখ্যক আইনি দলিল পাসের কর্মযজ্ঞ শেষ করতেই অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।
- বেসরকারি দিবস বাতিল: আগামী বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত ‘বেসরকারি সদস্য দিবস’ (Private Members’ Day) বাতিল করা হয়েছে। ওই দিনটিও সরকারি বিল পাসের কাজে ব্যবহার করা হবে।
৩. সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অধিবেশনের সম্ভাবনা
কাজের চাপ বিবেচনায় সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রয়োজন হলে আগামী শুক্রবারও অধিবেশন চালানো হতে পারে। সরকারি কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিলগুলো দ্রুত পাস করে প্রশাসনিক ও আইনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সংসদের প্রধান লক্ষ্য।
৪. সংসদীয় কমিটির তৎপরতা
বিলগুলো পাসের আগে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে দ্রুত যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী এর আগে জানিয়েছিলেন যে, প্রতিটি বিল স্বচ্ছতার সাথে এবং যথাযথ আলোচনার মাধ্যমেই পাস করা হবে।
সংসদের এই ‘ম্যারাথন’ অধিবেশন বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মূলত রাষ্ট্র সংস্কার ও আইনি সংস্কারের গতি ত্বরান্বিত করবে।



















