তারেক রহমানের ‘আইনের শাসন’ ও রয়টার্স বার্তা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কি আবার রাজনীতিতে ফিরতে পারবে? এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অত্যন্ত কৌশলী ও নীতিগত অবস্থান নিয়েছেন। নির্বাচনের আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে (৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আইনের চোখে যে অপরাধী, তাকে বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তবে যে কারো রাজনীতি করার অধিকার আছে।” গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনেও তিনি একই সুর বজায় রেখে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিষয়টি ‘আইনের শাসন’ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সমাধান হবে। অর্থাৎ, অপরাধীদের বিচার এবং নির্দোষ সমর্থকদের রাজনৈতিক অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে একটি সীমারেখা টানতে চাইছে বিএনপি।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের আলোচনার প্রস্তাব আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আইটিভিকে (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় এক বিস্ময়কর ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসী। তারেক রহমান যদি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন, তবে দেশের স্বার্থে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে আমার কোনো আপত্তি নেই।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জয়ের এই নমনীয় অবস্থানকে আওয়ামী লীগের ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে দেখছেন। যেখানে শেখ হাসিনা ভারতে এবং জয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা বা ‘সেফ প্যাসেজ’ পাওয়াই এখন দলটির টিকে থাকার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে।
ভোটব্যাংক ও জামায়াত ফ্যাক্টর নির্বাচনী ফলাফলের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের একটি বিশাল ভোটব্যাংক এবার বিএনপি ও ধানের শীষের দিকে ঝুঁকেছে। জামায়াতে ইসলামীর অভাবনীয় উত্থান (৬৮ আসন) এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থককে চিন্তিত করে তুলেছে। এই ‘ধর্মভিত্তিক রাজনীতি’র প্রভাব রুখতে অনেক আওয়ামী লীগপন্থী ভোটার বিএনপিকে একটি ‘সেফ গার্ড’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তারেক রহমানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—আওয়ামী লীগকে একদম বিলুপ্ত হতে দিয়ে কি তিনি জামায়াতকে প্রধান প্রতিপক্ষ বানাবেন, নাকি একটি ‘পরিশোধিত’ আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখবেন?
ভবিষ্যৎ রাজনীতির ৩টি মূল চাবিকাঠি:
- আইনি প্রক্রিয়া: শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতাদের জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ট্রাইব্যুনালের রায়।
- সাংগঠনিক সংস্কার: আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব বদলে নতুন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের সামনে আসা।
- তারেক রহমানের গ্রিন সিগন্যাল: নতুন সরকার আওয়ামী লীগের ওপর থাকা প্রশাসনিক ও আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কতটা উদারতা দেখাবে।



















