ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর এই প্রথম ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন ফয়সাল। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ভিডিওটি প্রকাশের পর জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়। কারণ, হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছিল, হাদিকে গুলি করে ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যান। একই সঙ্গে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না এবং ফয়সাল সত্যিই দুবাইয়ে আছেন কি না—তা নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি এআই দ্বারা তৈরি নয়। ভিডিওতে দৃশ্যমান চেহারা ও মুখভঙ্গি ফয়সাল করিমের বাস্তব চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে শুধু ভিডিও দেখে তিনি সত্যিই দুবাইয়ে আছেন কি না—তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
আরেক ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারও জানিয়েছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়। বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে যাচাই শেষে তারা বলেছে, প্রায় চার মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ভিডিও বর্তমানে প্রচলিত অধিকাংশ এআই টুলের সক্ষমতার বাইরে।
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভিডিওটি তারা খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধীরা অনেক সময় বিভ্রান্তি ছড়াতে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে থাকে এবং ফয়সালও সে কৌশল নিতে পারেন।
ভিডিও বার্তায় ফয়সাল দাবি করেন, তিনি হাদিকে হত্যা করেননি, গুলি করার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না এবং তার কোনো ছোট ভাইও নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে দ্য ডিসেন্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ফয়সাল করিমই গুলি চালিয়েছিলেন এবং চালকের আসনে ছিলেন তার সহযোগী আলমগীর শেখ।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।



















