মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ শনাক্তকরণ এবং পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না বলে ঐতিহাসিক রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আজ সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য তৈরি করে এবং এটি কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা ও সামাজিক ভারসাম্যহীনতার অন্যতম কারণ। ২০২০ সালে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের দায়ের করা এক জনস্বার্থ রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই যুগান্তকারী রায় এলো।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা হাইকোর্ট তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি, যা মানুষের জীবনের অধিকার ও সমতার নিশ্চয়তা দেয়। আদালত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টগুলো তদারকি করা যায়। আদালত এই নির্দেশনাকে ‘Continuous Mandamus’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যার অর্থ হলো—ভবিষ্যতে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত নিজেই নিয়মিত তদারকি করবেন।



















