ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশজুড়ে আলোচিত এই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রাথমিক তদন্তে একজনকে শুটার হিসেবে শনাক্ত করা হলেও মোটিভ ও পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, শুটার হিসেবে শনাক্ত যুবকের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ খান। তিনি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুরের হুমায়ুন করিমের ছেলে এবং রাজধানীর আদাবরের পিসিকালচার সোসাইটিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য ছিলেন তিনি। গত বছরের নভেম্বরে আদাবরে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান ফয়সাল।
সাম্প্রতিক সময়ে হাদির সঙ্গে ঢাকা-৮ এলাকায় গণসংযোগ ও বাংলামোটরে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের আড্ডায় ফয়সালের উপস্থিতির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে হাদিকে অনুসরণ করছিলেন।
হামলায় অংশ নেওয়া মোটরসাইকেল চালককে এখনও নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। সম্ভাব্য তিনজনের ছবি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং টাওয়ার ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান যাচাই চলছে। গুলির সময় ঘটনাস্থলে যার ফোন লোকেশন পাওয়া যাবে, তাকেই জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনার পর শুটার ও চালক সীমান্ত এলাকার দিকে পালিয়ে যেতে পারেন—এ আশঙ্কায় সীমান্ত জেলাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে; বিজিবিকেও সতর্ক করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এক সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে এবং তথ্য দিলে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী হামলাকারীদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন এবং জড়িতদের কাউকেই ছাড় না দেওয়ার কথা বলেছেন।
ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় যাচাই-বাছাই ছাড়া নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শিকদার বলেন, একাধিক টিম মাঠে আছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের আশা করা হচ্ছে। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যরা থানায় এলে মামলা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।



















