প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শুধু পাঁচ বছরের ভোট নয়, বরং দেশের জন্য ‘শত বছরের ভিত্তি নির্মাণের’ সুযোগ। তিনি নির্বাচনকে একটি জাতীয় ‘বিল্ডিং কোড’ তৈরির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যেমন ভূমিকম্পে বিল্ডিং টিকে থাকার জন্য কোড মানা জরুরি, তেমনি সমাজের স্থিতিশীলতার জন্য এই নির্বাচনই হবে ভবিষ্যৎ পথনির্দেশক কাঠামো।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ৬৪ জেলার এসপি এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইউনূস বলেন, “আপনাদের ওপর যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। জীবনের শেষে ভাবতে হবে— আমরা কি সেই বিল্ডিং কোড তৈরিতে অংশ নিয়েছি?” তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হবে, যা আরও বড় গুরুত্ব বহন করবে।
দায়িত্ব ও নিরপেক্ষতার ওপর জোর
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে এসপিদের পদায়ন দৈবচয়ন পদ্ধতিতে করা হয়েছে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত সহজভাবে নিতে তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত হবে— স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ভোট আয়োজনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষকদের সামনে নতুন উদাহরণ স্থাপন করবে বাংলাদেশ।
গণঅভ্যুত্থানের শহিদ আনাসকে স্মরণ
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ স্কুলছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রফেসর ইউনূস। আনাস মিছিলে যাওয়ার আগে মায়ের কাছে লেখা চিঠির অংশ উদ্ধৃত করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার চোখে অশ্রু চলে আসে।
তিনি বলেন, “আমরা নিষ্ক্রিয় থাকতে পারি না। আনাসের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান, আগামী তিন মাস নিরলসভাবে কাজ করে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
অন্যদের বক্তব্য
সভায় বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, হবিগঞ্জের এসপি ইয়াসমিন খাতুন ও জামালপুরের এসপি ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাবের সাদেক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইজিপি বাহারুল আলম।



















