মন্ত্রী বন্দরের জেটি এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম দেখেন এবং উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। পরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে মোংলা, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা এবং খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। নৌপথ ও আকাশপথেও নজরদারি চালানো হয়।
দিনের কর্মসূচি শেষে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে মোংলার হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপটারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
হেলিকপটারে সুন্দরবন পরিদর্শন
সফরকালে হেলিকপটারে করে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বনের প্রাণপ্রকৃতির ক্ষতি এড়াতে হেলিকপটারটি সুন্দরবনের ভেতরে কোথাও অবতরণ করেনি বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপটারটি আকরাম পয়েন্ট, হিরণ পয়েন্ট ও ত্রিকোণ আইল্যান্ডের আশপাশ দিয়ে উড়ে যায়। পরে হেলিকপটারটি খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে।
প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময়
মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে প্রটোকল ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বন্দরের জেটি এলাকায় প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে প্রায় ৫০ মিনিট পরিদর্শন শেষে সোয়া ৪টার দিকে বেজার প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন।
পথে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিতে গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাত নেড়ে অভিবাদন জানান এবং কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন।
মোংলা ঘিরে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মোংলা বন্দর, পশুর নদী ও সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বন্দরের জেটি ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সমবেত হন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে শিল্পায়নের বিকল্প নেই। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, বেজার অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম, সুন্দরবনের পরিবেশগত বিষয় এবং পর্যটনের সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখতে প্রধানমন্ত্রী এ সফর করেছেন। তাঁর মতে, এ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়বে।
মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং বন্দর ব্যবসায়ী মো. জুলফিকার আলী বলেন, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল, নতুন জেটি ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের স্থান পরিদর্শন এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো গড়ে উঠলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পদ্মা সেতু ও খুলনা-মোংলা রেলপথের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে মোংলাকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।


















