রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি, ২০২৬) সকালে বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের তীব্র ক্ষোভ ও বিচারপ্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই সভায় স্বজনরা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উদাসীনতা, রাষ্ট্রীয় অবহেলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে গিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হেনস্তা হওয়ার অভিযোগ করেন। শহীদ আনোয়ারুল ইসলাম জীবনের ভাই অভিযোগ করেন যে, তাঁর ভাই বিএনপি করত বলে ট্রাইব্যুনালে তাঁর মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। শহীদ আহনাফের মা আক্ষেপ করে বলেন, তাঁর ছেলের খুনিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, এই সরকার শহীদদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এলেও তাঁদের জন্য দৃশ্যমান কোনো বিচার বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারেনি।
মতবিনিময় সভায় শহীদ আবু সাঈদের ভাই, মীর মুগ্ধের বাবা এবং শহীদ আব্দুল্লাহর মাসহ অনেকেই তাঁদের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা দাবি জানান, আগামীতে যে সরকারই আসুক না কেন, যেন ‘জুলাই সনদ’ রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এবং খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হয়। শহীদ আব্দুল্লাহর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিজে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে গেলেও আহত সাধারণ যোদ্ধারা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। সভায় তারেক রহমান শহীদ ও আহতদের পরিবারের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানও উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের সাথে বসে তাঁদের দুর্দশার কথা শোনেন। সবশেষে শহীদ পরিবারগুলো একটি দায়বদ্ধ সরকারের কাছে ন্যায়বিচার এবং তাঁদের সন্তানদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতির আহ্বান জানায়।



















