সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মাচরণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না।
শুক্রবার রাজধানীর বনানী মাঠে শারদীয় দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর বিশ্বাস, আচার ও অনুষ্ঠান তাঁদের হৃদয়ের খুব কাছের। তাই অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’ বলা উচিত। বাংলাদেশের সবাই সমান অধিকারের অধিকারী নাগরিক। কেউ কাউকে সম্প্রদায় হিসেবে দেখার বিষয় নয়; সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং সমান অধিকার ভোগ করবেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান সব ধর্মাবলম্বীকে স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার দিয়েছে। তাই সবার ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা দায়িত্ব।
দুর্গাপূজার আয়োজন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ সরকারি বরাদ্দ ও সর্বোচ্চ ছুটি রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্নে উদযাপনে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, নেপালের রাষ্ট্রদূত জ্ঞানশ্যাম ভান্ডারীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাফুফে চেয়ারম্যান ও বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত এবং বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া (দিলন)।
গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের সদস্য স্বপ্না ভৌমিক।
মহাষষ্ঠীর শুভলগ্নে দুর্গামায়ের আগমনী গান, নৃত্য পরিবেশনা ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এ সময় শারদীয় বিশেষ সাময়িকী ‘বোধন’-এর মোড়কও উন্মোচন করা হয়।


















