মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল, ২০২৬) দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামক জাহাজটি ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বহির্নোঙরে নোঙর করেছে।
জ্বালানি আমদানির বর্তমান চিত্র ও বিপিসির পরিকল্পনা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সরবরাহকারী ও আমদানির পরিমাণ
- সর্বশেষ জাহাজ: সিঙ্গাপুরের ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড এই ৩৪ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করেছে।
- ধারাবাহিকতা: এর আগে গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টাতেও ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ইউনিপ্যাকের আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রামে এসেছিল। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৬১ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছে।
২. এপ্রিল মাসের চাহিদা ও লক্ষ্যমাত্রা
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী:
- চাহিদা: চলতি এপ্রিল মাসে দেশে ডিজেলের মোট চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন।
- পরিকল্পনা: এই মাসে আরও প্রায় সোয়া তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মাসে দুটি বড় জাহাজ দেশে ভিড়ল।
৩. মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব ও বিকল্প উৎস
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের জাহাজগুলো পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় সরকার বিপিসির মাধ্যমে বিকল্প উৎস (যেমন সিঙ্গাপুর) থেকে তেল সংগ্রহের উদ্যোগ জোরদার করেছে।
৪. খালাস প্রক্রিয়া
বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন নিশ্চিত করেছেন যে, সর্বশেষ জাহাজটি পৌঁছেছে এবং এখন নিয়ম অনুযায়ী ল্যাব টেস্ট ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে তেল খালাস শুরু হবে। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের মজুদ স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এই আমদানির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষি সেচ মৌসুমে ডিজেলের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















