সোমবার , ৫ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

বাংলাদেশে প্রথম এসএমআর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) বা ছোট আকৃতির পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (সিইইসি) একটি বিশেষজ্ঞ দল সম্প্রতি জামালপুরের মাদারগঞ্জের চর এলাকা পরিদর্শন করেছে।

বিপিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিমের তথ্য অনুযায়ী, মডিউলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য চীনা প্রতিনিধিদলকে দেশের চারটি সম্ভাব্য স্থান দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে মাদারগঞ্জের একটি স্থান পরিদর্শন করেছে দলটি। শিগগিরই পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর আরেকটি সম্ভাব্য স্থানও পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিপিডিবি ইতোমধ্যে সিইইসির সঙ্গে একটি অ-বাধ্যতামূলক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট সম্মিলিত ক্ষমতার ছোট ও মাঝারি আকারের মডিউলার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

তুলনামূলক ছোট আকারের পরমাণু কেন্দ্র

স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর হলো আধুনিক প্রযুক্তির তুলনামূলক ছোট আকারের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রচলিত বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় এগুলোর আকার ও উৎপাদনক্ষমতা কম। কারখানায় তৈরি বিভিন্ন মডিউল বা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এগুলো স্থাপন করা যায়।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সংজ্ঞা অনুযায়ী, এসএমআরের প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণত ৩০০ মেগাওয়াট বা তার কম। তুলনামূলক ছোট আকার ও মডিউলার নির্মাণপদ্ধতির কারণে বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের রিঅ্যাক্টর স্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও ভৌগোলিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ কাজে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

রূপপুরের অগ্রগতি নিয়ে বিপিডিবির অনিশ্চয়তা

এদিকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের বর্তমান অগ্রগতি ও চালুর সময়সীমা নিয়েও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছে বিপিডিবি।

বিপিডিবি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের কাজের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের কাছে এখনো স্পষ্ট তথ্য নেই। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বা শুল্ক কত হবে, সে বিষয়েও এখনো চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া যায়নি।

রূপপুরের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির এসএমআর স্থাপনের উদ্যোগকে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তুলনামূলক ছোট আকারের কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব

চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিইইসি) চীনের একটি বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে বিস্তৃত। বাংলাদেশে এসএমআর প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন ও প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।

তবে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন ও অ-বাধ্যতামূলক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও এসএমআর প্রকল্প এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মধ্যে রয়েছে। প্রযুক্তিগত, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক পর্যালোচনার পরই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধি এবং কম কার্বন নিঃসরণকারী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য থেকে ছোট মডিউলার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ