রবিবার , ৪ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

রোহিঙ্গা সংকট জটিল, সীমান্তে সংঘাতের প্রভাব পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ

Spread the love

মানবিক কারণে বাংলাদেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মিয়ানমারে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক সহায়তা দিন দিন কমে আসছে। এতে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে আগের মতো পর্যাপ্ত আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ

আইআইএমএমের প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাঁদের দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য জমা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কৌমুজিয়ান আরও বলেন, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘর্ষে বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

সীমান্তে ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকি

বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক মিয়ানমার সীমান্তে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার পানির কারণে মাইন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে চলে আসার ঝুঁকি রয়েছে। এতে সাধারণ কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন বিপন্ন হচ্ছে।

সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নেওয়া পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্রও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

আইআইএমএমের দল সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সম্মতি জানানো হয়।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত