বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই নতুন স্বাভাবিক অবস্থা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্থর প্রবৃদ্ধি, ঋণের উচ্চ ব্যয় ও বাণিজ্যিক সংরক্ষণবাদের মতো চ্যালেঞ্জের সময়ে সঠিক ও তথ্যনির্ভর নীতি প্রণয়নই অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) জাতীয় আন্তবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউআইইউর অর্থনীতি বিভাগের সহযোগিতায় এবং জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরামের (জেইএফ) উদ্যোগে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২৪টি দল ‘ইকনথন ২০২৬’-এ নিবন্ধন করে। কুইজ, কেস সলভিং ও নীতি প্রণয়নভিত্তিক বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন তিনি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, জ্বালানির দাম, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং করব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
জনগণের করের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাকে সরকারের অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তবে সততা ও মানবিকতা ছাড়া সেই দক্ষতা সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে না। অর্থনীতি শুধু পরীক্ষায় পাস করার বিষয় নয়; অর্থনীতির বিষয়গুলো অনুধাবন করে দেশের সেবায় নীতি ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা কে এম এ শামীমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম মিয়া। পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অর্থমন্ত্রী।


















