ইরানের রাজধানী তেহরানে পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাকে মূল লক্ষ্যবস্তু করে ইসরায়েল ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। ইরানের স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছু সময় পর, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।
একই সাথে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ তাদের দেশে জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই ইসরায়েলের ওপর পাল্টা হামলা চালাতে পারে ইরান।
হামলার পরপরই তেহরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, হামলায় আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শিশুদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া, ইরানের ইসলামি রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোর-এর (আইআরজিসি) প্রধান কার্যালয়ের ওপরও হামলা হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন আইআরজিসি’র কমান্ডার হোসেইন সালামি। শুক্রবার ভোরের ওই হামলায় নিহত ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনিই সম্ভবত জ্যেষ্ঠ পদাধিকারী। এর বাইরে হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় দুই পরমাণু বিজ্ঞানীও নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি হামলায় নিহত এই দুই জ্যেষ্ঠ পরমাণু বিজ্ঞানীর নাম প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। তাদের একজন হলেন ফেরেয়দুন আব্বাসি, যিনি ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (এইওআই)-এর সাবেক প্রধান। এইওআই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার দায়িত্বে আছে। ইসরায়েলের হামলায় নিহত অপর বিজ্ঞানীর নাম মোহাম্মদ মেহেদী তেহরানচি, যিনি তেহরানের ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি।
এছাড়াও সর্বশেষ ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় তাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে রেভ্যুলেশনারি গার্ডের সম্পৃক্ত সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।



















