শুক্রবার , ২ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ছুটির দিনেও মাঠ প্রশাসনের ১২০০ কর্মকর্তাকে ঢাকায় ডেকেছে সরকার

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ২, ২০২৬ ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

সাপ্তাহিক ও সাধারণ ছুটির দিনেও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি সভা ডেকেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। দাপ্তরিক কাজের গতি বাড়ানো, ঝুলে থাকা প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তাকে ঢাকায় ডাকা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর সমবায় ভবনে অনুষ্ঠেয় এ সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।

সভায় মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা পর্যালোচনার পাশাপাশি চারটি নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এগুলো হলো—ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যাঁরা থাকবেন সভায়

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সভায় দেশের সব সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা, সব জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, প্রায় ৫০০ ইউএনও, উপজেলা পরিষদের প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ের প্রকৌশলীদের ডাকা হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের বড় অংশ উপজেলা পর্যায় থেকে বাস্তবায়ন হওয়ায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশনা দিতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বা জটিলতা এড়ানোর লক্ষ্যেই ছুটির দিনেও কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সভা করা হচ্ছে।

তবে ছুটির দিনে সভা আয়োজন নিয়ে মাঠ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে নানা মন্তব্য রয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষের কথা জানালেও সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয় বলেও কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।

আগের সভায় অনুপস্থিত ছিলেন ৬৩ কর্মকর্তা

এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ওই সভায় ৫০৩ জন কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন ৪৪০ জন। অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল এলজিইডি।

ওই সভাতেও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থাপনায় সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে সেপ্টেম্বর মাসে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পর্যায়ের স্থাপনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের বিষয়ে একাধিক অফিস আদেশও প্রকাশিত হয়েছে।

৬ হাজার ৫৪৪ স্থাপনা ও বাজারে সৌর প্যানেলের পরিকল্পনা

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারের ছাদ বা স্থায়ী অবকাঠামোকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের প্রায় ৬ হাজার ৫৪৪টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও বাজারের ছাদ বা স্থায়ী অবকাঠামো এ কর্মসূচির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এ কাজ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীদের ভূমিকা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়ন ও বাজারের স্থায়ী শেডে সোলার প্যানেল স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও জেলা পরিষদে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য মোট ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে ১২০ কোটি, সিটি করপোরেশনে ৭৫ কোটি, উপজেলা পরিষদে ৯৯ কোটি, পৌরসভায় ৬৪ কোটি এবং জেলা পরিষদে ১২ কোটি টাকা রয়েছে।

এসব স্থাপনা থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ডেঙ্গু ও বৃক্ষরোপণও আলোচনায়

সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়েও আলোচনা হবে। গত ১২ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করা হয়। এ কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। কোন উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কী অবস্থা, সভায় সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের তথ্য নেওয়া হবে।

উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা এবং মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, ডেঙ্গু নিরোধ, বৃক্ষরোপণ ও উন্নয়নমূলক কাজকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি দেখা যাচ্ছে।

সর্বশেষ - অপরাধ