শনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ব্রাজিলের বিদায়ে ক্ষমা চেয়ে যা বললেন ভিনিসিয়ুস

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১১, ২০২৬ ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

মিশন ছিল ফুটবল বিশ্বের বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’ (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি) পূর্ণ করে আবারও বিশ্বসেরার সোনালী মুকুট মাথায় পরা। সেই বুকভরা স্বপ্ন ও কোটি ভক্তের প্রত্যাশার পারদ নিয়ে এবারও বিশ্বমঞ্চে পা রেখেছিল লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল। কিন্তু সেলেসাওদের সেই হেক্সা জয়ের সোনালী স্বপ্ন এবারও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোর নকআউট মঞ্চেই। নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের বিধ্বংসী জোড়া গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই নির্মম হারের ফলে ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের অপেক্ষা এখন দীর্ঘায়িত হয়ে ঠেকেছে দীর্ঘ ২৮ বছরে (২০০২ সালের পর)। দলের এমন আকস্মিক ও হতাশাজনক বিদায়ে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

চোটের অভিশাপ ও একা লড়াইয়ের গল্প

সমর্থকদের সেই বুকভাঙা কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে দলের অন্যতম প্রাণভোমরা ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে। আসলে এবারের বিশ্বকাপে সেলেসাওদের শুরুটাই হয়েছিল চোটের এক চরম অভিশাপ নিয়ে। মাঠের মূল লড়াই শুরু হওয়ার আগেই চোটের নির্মম থাবায় পুরো স্কোয়াড থেকে ছিটকে যান আক্রমণভাগের দুই মূল স্তম্ভ—রদ্রিগো ও তরুণ সেনসেশন এস্তেভাও। এরপর টুর্নামেন্ট চলাকালীন চোটের সেই দীর্ঘ তালিকায় একে একে যোগ হন দলের মাঝমাঠ ও উইংয়ের অন্যতম ভরসা রাফিনিয়া ও লুকাস পাকেতা।

এত সব গুরুত্বপূর্ণ তারকা সতীর্থকে হারিয়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের পুরো জোয়াল একাই কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে। সেই গুরুদায়িত্ব তিনি মাঠের পারফরম্যান্সে বেশ বীরত্বের সঙ্গেই সামলেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের হয়ে ৫ ম্যাচে করেছেন ৪টি নজরকাড়া গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট। কিন্তু শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নরওয়ের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে একা আর দলকে টেনে তুলতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।

‘আমি প্রচণ্ড হতাশ, আমাদের ক্ষমা করবেন’

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের সেই তীব্র মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে টানা চার দিন সময় নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। হারের চার দিন পর নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। পোস্টে ভিনিসিয়ুস লিখেছেন:

“বিশ্বকাপের আরেকটি হতাশাজনক অধ্যায় রচনার পর এখন কী লিখব, তা ভেবেই কূল পাচ্ছি না। সবাইকে আমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন করতে এবং আমাদের স্বপ্নকে আগলে রাখতে দেখেছি। তাই এই মুহূর্তে চুপ করে থাকাটা অন্যায় হবে। তবে বিষয়টি গভীরভাবে ভাবার জন্য আমার কয়েকটা দিন সময় দরকার ছিল। জাতীয় দলের ঐতিহ্যবাহী এই ঐতিহাসিক জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে এভাবে ছিটকে যাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান
বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ খেলা৫টি ম্যাচ (গ্রুপ পর্ব ও শেষ ১৬)।
ভিনিসিয়ুসের গোল সংখ্যা৪টি নজরকাড়া গোল।
অ্যাসিস্টের সংখ্যা১টি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট।
প্রধান ইনজুরি ধাক্কারদ্রিগো, এস্তেভাও, রাফিনিয়া ও লুকাস পাকেতা।

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি জানি আমি এই আসরের জন্য কতটা নিখুঁত প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এবং কতটা মনোযোগী ছিলাম। আপনাদের এবং আমার নিজের পরিবারের জন্য আমি এই বিশ্বকাপটি জিততে চেয়েছিলাম। আমি প্রচণ্ড হতাশ। টুর্নামেন্টের আরও অনেক দূর যাওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী দল আমাদের ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা তা পারিনি। আমি আপনাদের সবার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছি। তবে আমি ভেঙে পড়ছি না, আবারও ব্রাজিল দলকে বিশ্বসেরার সিংহাসনে বসানোর জন্য আমি আমার লড়াই চালিয়ে যাব।” ভিনির এই আবেগঘন পোস্টের পর ফুটবল বিশ্বে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন এবং আগামী বিশ্বকাপের দল নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত