মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা এজাহরা এল মানসুরিকে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজপ্রাসাদ থেকে এ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আরব বিশ্বে তিউনিশিয়ার নাজলা বুদেনের পর দ্বিতীয় নারী হিসেবে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন তিনি।
৫০ বছর বয়সী মানসুরি রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। তিনি মরক্কোর মোহাম্মদ ভি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেন। ২০০৯ সালে তিনি মারাকেশের প্রথম নারী মেয়র হন। পরে দেশটির নগর পরিকল্পনা ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে মানসুরির দল ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (PAM) সর্বোচ্চ ৯৭টি আসন পায়। দেশটির ৩৯৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৯৮টি আসন। ফলে নতুন সরকার গঠনে PAM-কে অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে হবে।
মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পাওয়া দলের মধ্য থেকেই রাজা সরকারপ্রধান নিয়োগ করেন। সেই সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী মানসুরিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের পর এক টেলিভিশন ভাষণে মানসুরি তাঁর দায়িত্ব গ্রহণকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সরকার গঠন নিয়ে জোটের সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। PAM-এর পর ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেনডেন্টস (RNI) ৬৬টি এবং ইস্তিকলাল পার্টি ৬৫টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে ইসলামপন্থী জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (PJD) ৫৪টি আসন পেয়েছে এবং বিরোধী দলে থাকার কথা জানিয়েছে।
নতুন সরকারের সামনে জোট গঠনের পাশাপাশি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। মরক্কো স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে।


















