বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে আগামী অক্টোবরেই চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, নতুন ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি বর্তমানে বহরে থাকা ১৭টি উড়োজাহাজ মিলিয়ে ভবিষ্যতে বিমানবহরে ৫০টির বেশি এয়ারক্রাফট থাকবে। নতুন কেনা উড়োজাহাজগুলো ২০৩৬ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হতে পারে। এ ছাড়া আরও ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোয়িং কেনার চুক্তি প্রসঙ্গে বিমানমন্ত্রী জানান, প্রথম দফায় ১৪টি এবং পরে আরও ১১টি—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ন্যারোবডি এবং ১৪টি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ। এসব উড়োজাহাজ কিনতে মোট ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে জানান তিনি।
চুক্তি অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজ ২০৩১ সালে আসবে। তবে একটি উড়োজাহাজ হলেও ২০২৭–২৮ সালে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সবগুলো উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে ২০৩৫–৩৬ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আপাতত টাকা এখনই দিতে হচ্ছে না, গ্যারান্টি দিচ্ছি। একটা করে বিমান দেবে, তারপর টাকা দেব। এ টাকা ফ্লিটের আয় থেকেই দিতে পারব আশা করি।’
২০-২৫ বছরের পরিকল্পনায় বহর সম্প্রসারণ
দেশের অ্যাভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের বর্তমান বিমানবহর পুরোনো হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বহরে থাকা ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে দুটি প্রায় গ্রাউন্ডেড অবস্থায় রয়েছে এবং বাকি ১৭টিও আগামী ১০ বছরের মধ্যে পুরোনো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের অ্যাভিয়েশন খাতের কথা মাথায় রেখে এসব চুক্তি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের উদাহরণ দিয়ে বলেন, দেশটির এয়ারলাইনসের বহরে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে এবং তাদের অ্যাভিয়েশন খাত দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
থার্ড টার্মিনাল আংশিক চালু ডিসেম্বরে
বিমানমন্ত্রী জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কিছু ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়ে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটির আংশিক উদ্বোধন হতে পারে। পুরোপুরি কাজ শেষ হতে আরও পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।
থার্ড টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, উড়োজাহাজ থেকে যাত্রী ওঠানামা এবং লাগেজ সরবরাহে নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করতে হবে। লাগেজ ১২ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সরবরাহের লক্ষ্য পূরণ না হলে টার্মিনাল হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা দিতে হবে বলেও জানান তিনি।
নভেম্বরে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উদ্বোধন
মন্ত্রী জানান, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোন দেশ বা নির্মাতার কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনা হবে, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। দেশের জন্য কোন ধরনের উড়োজাহাজ উপযুক্ত এবং কোথা থেকে কিনলে বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে—এসব বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘কোনো চাপে কিছু করছি না। প্রয়োজনে কিনছি, ফ্লাইট বাড়ানোর জন্য কিনছি।’ বিমানবহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মডেল অনুসরণ করার আগ্রহের কথাও জানান বিমানমন্ত্রী।


















