বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসাব এবং তা পুনরুদ্ধারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে সারসংক্ষেপ আকারে তুলে ধরা হলো:
- পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। প্রতি বছরে এর গড় পরিমাণ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা)।
- চিহ্নিত ১০টি গন্তব্য দেশ: অর্থ পাচারের প্রধান গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং (চীন)।
- আইনি চুক্তি ও পারস্পরিক সহায়তা: এর মধ্যে তিনটি দেশের (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (MLAT) স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি মিলেছে। বাকি ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
- যৌথ টাস্কফোর্স ও তদন্ত দল (JIT): বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলার অনুসন্ধানের জন্য দুদক, সিআইডি, এনবিআর এবং শুল্ক গোয়েন্দাদের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে।
- জব্দকৃত সম্পদের পরিসংখ্যান: আদালতের নির্দেশে দেশে মোট ৫৭,১৬৮ কোটি টাকা এবং বিদেশে ১৩,২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে মোট প্রায় ৭০,৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
- মামলার অগ্রগতি: অর্থ পাচার সংক্রান্ত মোট ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৬টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং রোধে এবং পাচারকৃত সম্পদ দেশে ফেরত আনা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজগুলোর একটি। এ বিষয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।



















