বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বৃহস্পতিবার স্পিকারের কার্যালয়ে জার্মানির একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই জার্মান সরকার বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করে আসছে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য জার্মানি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ১৯৩৭ সাল থেকে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছিল। স্বৈরাচারী আমলের গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
স্পিকার আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী। নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান অনুসরণীয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রপ্রিয় বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার নিজেদের উৎসর্গ করেছে। তাদের দৃঢ় মনোবল ও দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমান জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে স্পিকার জানান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছয়জন নারী সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও মতবিনিময় হয়।
জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেস্ট্যাগের সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ, উলে শাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ।
এ সময় জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


















