মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাসসংকট তৈরি হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও বাসাবাড়িতে চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। এই সংকটের তীব্রতায় দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষমতায় উৎপাদন চালু রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
শিল্প ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
- শিল্প ও বস্ত্রখাতে স্থবিরতা: শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ (PSI) শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসায় গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নরসিংদীর মতো শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, তাঁর নিজের গ্রুপের ৯০% কারখানাসহ দেশের ৪০ শতাংশের বেশি কারখানা বন্ধ বা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের রপ্তানি আদেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
- উৎপাদন ও সরবরাহের চিত্রে বড় ঘাটতি: পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, দেশে দৈনিক প্রায় ৪,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নেমেছে মাত্র ২,২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে (ঘাটতি ১,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট)। স্বাভাবিক সময়ে এলএনজি থেকে ৯৫০-১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট মিললেও বর্তমানে তা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে ঠেকেছে।
- বিদ্যুৎ ও পরিবহনে প্রভাব: বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ ১,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমিয়ে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে আনা হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন স্থানে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে বা দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
- বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ও সরকারি পরিকল্পনা: জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম জানান, ব্যাকআপ বা রিজার্ভ সক্ষমতা না থাকায় একটি টার্মিনাল বিকল হতেই এই সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অপরদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বিদেশী বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় টার্মিনাল মেরামতের কাজ চলছে এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমাতে ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


















