ইরানের অভ্যন্তরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘ভারী মাত্রার’ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক কমান্ড সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে আগের দিন চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কঠোর জবাব হিসেবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে বিফ্রিংয়ে জানানো হয়।
সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের আধা-সরকারি সংস্থা তাসনিম নিউজের সূত্রে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযানের পটভূমি, লক্ষ্যবস্তু ও পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি:
- সেন্টকমের হামলার লক্ষ্যবস্তু: সেন্টকম জানায়, আইআরজিসির কয়েকটি ডজন স্পর্শকাতর ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রধান সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উড্ডয়ন কেন্দ্র, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতাসংক্রান্ত একাধিক পরিকাঠামো।
- যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্দেশ্য: মার্কিন বাহিনীর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনরত আমেরিকান সেনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর জন্য ইরান ও তার অনুগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য হুমকি নস্যাৎ করতেই এই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- মার্কিন বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা: সেন্টকমের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা ও নৌ-কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ অ্যালার্টে (High Alert) রাখা হয়েছে।
- ইরানি গণমাধ্যমের দাবি ও পরিস্থিতি: ইরানের স্থানীয় বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’ নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ফারস প্রদেশের কাজেরুন শহরের উপকণ্ঠ এবং পারস্য উপসাগরের পর্যটন অঞ্চল ‘কিশ দ্বীপ’-এ হামলা চালানো হয়েছে। কিশ দ্বীপে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাণিজ্যিক ফেরি চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
উভয় দেশের মধ্যবর্তী এই সামরিক সংঘাতের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা নতুন এক আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন


















