স্থান পরিবর্তন ও নতুন নজির বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে হওয়ার কথা থাকলেও, এবার তা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা এখানে শপথ গ্রহণ করবে। জাতীয় সংসদকে গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্ব দিতেই এই প্রতীকী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটিও এই ঐতিহাসিক দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত হয়েছিল।
একই দিনে দুই ধাপের শপথ মঙ্গলবার দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে একটি ব্যস্ত ও ঐতিহাসিক দিন হতে যাচ্ছে। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী অনুষ্ঠানের সময়সূচি নিম্নরূপ:
- সকাল (সম্ভাব্য সময় ১০:৩০): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করবেন। বর্তমান স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তাঁদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
- বিকেল (সম্ভাব্য সময় ৪:০০): নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে শপথ পাঠ করাবেন।
বিদেশি অতিথিদের আগমন ও নিরাপত্তা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্বের ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, চীনের প্রধানমন্ত্রীসহ সার্কভুক্ত ও প্রভাবশালী দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা। শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে শেরেবাংলা নগর ও সংসদ ভবন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় এক হাজার দেশি-বিদেশি অতিথি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংসদীয় তথ্যের এক নজরে আপডেট:
- মোট আসন: ২৯৯ (২৯৭টির গেজেট প্রকাশিত)
- সংখ্যাগরিষ্ঠ দল: বিএনপি (২০৯ আসন/কিছু তথ্যে ২১২)
- শপথের স্থান: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা
- শপথের তারিখ: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (মঙ্গলবার)



















