অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক প্রস্তুতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেকোনো ধরনের অঘটন রোধে বাংলাদেশে ইতিপূর্বে কখনো নেওয়া হয়নি এমন কঠোর ও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫ জেলার কর্মকর্তাদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনের দিনে কোনো ধরনের সহিংসতার শঙ্কা নেই এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রযুক্তি ও আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রস্তুতির বিবরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার কেবল জনবল নয়, প্রযুক্তির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। বিশেষ করে, আনসার সদস্যরা কেন্দ্রে পৌঁছানোর সাথে সাথেই একটি বিশেষ ‘সুরক্ষা অ্যাপ’ চালু করবেন, যা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হবে। যেসব কেন্দ্রে স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নেই, সেখানেও বিশেষ অস্থায়ী বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব আধুনিক উদ্যোগের কারণে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ অনেক বেশি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। বড় ধরনের কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। মতবিনিময় সভায় তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫ জেলার (ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর) প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল’ (অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য) নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “এখানকার প্রস্তুতি দেখে আমি সন্তুষ্ট, আপনারা আইন-শৃঙ্খলায় প্রথম হয়েছেন।”



















