২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ফেররান তোরেসের জয়সূচক গোলে পরাজয় বরণ করলেও মাঠের লড়াই ছাড়েনি আর্জেন্টিনা। মহানাটকীয় এই হারের পর পরই জাতীয় দলের সব খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফাইনাল ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার মাত্র কয়েক মিনিট পরেই নিজের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেন প্রেসিডেন্ট মিলেই। ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেন, “আমাদের দুর্দান্ত খেলোয়াড়দের জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ! তোমরা বিজয়ের জন্য একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছ। আমাদের এই পথচলা অব্যাহত থাকবে—আর্জেন্টিনা সবসময় শীর্ষেই অবস্থান করবে।”
এদিকে, নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মেগা আসরের ফাইনাল উপভোগ করতে বিশ্বের আনাচে-কানাচে থেকে আসা অগণিত সাংস্কৃতিক তারকা ও শীর্ষস্থানীয় বিশ্বনেতারা উপস্থিত হলেও ভিআইপি গ্যালারিতে সশরীরে দেখা যায়নি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে। জানা গেছে, আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল সংস্কৃতিতে এক গভীর অন্ধবিশ্বাস ও সংস্কার (Mufa/Cábala) প্রচলিত রয়েছে যে—দল যখন কোনো টুর্নামেন্টে ক্রমাগত জয়ের ধারায় বা শুভ সূচকে থাকে, তখন খেলা দেখার স্থান, নির্দিষ্ট আসন কিংবা সাথে থাকা সঙ্গী বদলে ফেললে দলের কাঙ্ক্ষিত সৌভাগ্য নষ্ট বা হাতছাড়া হতে পারে। ফুটবলপ্রেমী প্রেসিডেন্ট মিলেই পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দলের প্রতিটি জয়সুচক ম্যাচ বুয়েনস আইরেসে ঠিক একই জায়গায় এবং নির্দিষ্ট ঘনিষ্ঠ মানুষদের সাথেই বসে উপভোগ করেছেন। মূলত দলকে ঘিরে প্রচলিত সেই ঐতিহ্যবাহী বিশেষ রুটিন ও ‘লাকি চার্ম’ বজায় রাখতেই তিনি ফাইনাল দেখতে সশরীরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে ঘরে বসেই খেলাটি দেখার সিদ্ধান্ত নেন।



















