ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। সম্প্রতি ইরানে টানা অষ্টম রাতের মতো জোরালো হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী, যার আঘাতে দারখোভিন অঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষুব্ধ তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘বিপর্যয়কর জবাব’ দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়ে কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে যে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, তা কার্যকরভাবে ভেঙে পড়েছে এবং সমঝোতার সব শর্ত স্থগিত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি। তবে ইরানের এই স্মারক বাতিলের ঘোষণাকে গুরুত্ব না দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে বলেছেন, এই পদক্ষেপে তাঁর প্রশাসনের ‘কিছু আসে যায় না’ এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে ইরানকে চিরতরে বিরত রাখাই এখন ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।
দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’। পূর্বে স্বাক্ষরিত স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত রুট দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তা অমান্য করে জর্ডান উপকূল দিয়ে জাহাজ পরিচালনার চেষ্টা চালায়। এর জবাবে ইরানি বাহিনী হরমুজ দিয়ে অননুমোদিত রুট ব্যবহারকারী চারটি জাহাজের গতিপথ রুদ্ধ করে; এতে সতর্কবার্তায় দুটি জাহাজ পিছু হটলেও বাকি দুটি জাহাজ ‘দুর্ঘটনার’ মুখে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করে, যা মূলত জর্ডানে মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর হামলার প্রতিশোধ এবং হরমুজে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়।
এদিকে ইরানের দারখোভিন অঞ্চলে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা। তারা একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিষয়টির সুরাহা ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) ইতিমধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে জর্ডান ও কুয়েতে আকাশপথে সাইরেনের বিকট শব্দ এবং কুয়েতের পানি পরিশোধনাগারে হামলার জেরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের ও পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধের গভীর কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।


















