ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের ২৯৮টি নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে নামতে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তফসিল অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে তারা প্রচার-প্রচারণা শুরু করবেন।
প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থীরা গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ, পথসভা ও পোস্টার-লিফলেটের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছাতে সক্রিয় হবেন। এতে করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে পুলিশের প্রায় দেড় লাখ সদস্য এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন সদস্য মাঠে থাকবেন। পাশাপাশি বিজিবি, সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও নিরাপত্তা ও সহায়তামূলক কাজে যুক্ত থাকবেন।
নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। নজরদারির জন্য ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যায়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশের ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৮০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৫৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয় এবং ৭২৫টি বাতিল করা হয়। বাতিলের বিরুদ্ধে ৬৪৫ জন আপিল করেন, যার মধ্যে ৪৩৭ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। এছাড়া, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত মোট ৩০৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ান। সব প্রক্রিয়া শেষে ২৯৮ আসনে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইসির রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে কোনো প্রার্থী প্রচার শুরু করতে পারবেন না এবং ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। সেই অনুযায়ী, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীদের প্রচার শুরু হবে এবং ভোটের দুই দিন আগে তা শেষ করতে হবে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর।



















