গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সিএনএন-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সক্ষমতা ‘প্রায় ধ্বংস’ হয়েছে বলে দাবি করলেও, গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে চিত্রটি অনেক বেশি জটিল।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসা প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. কার্যকর সামরিক সক্ষমতা
- ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন: ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক (৫০%) এখনো কার্যকর রয়েছে। এছাড়া তাদের বিশাল ড্রোন ভাণ্ডারের একটি বড় অংশ অক্ষত আছে।
- ব্যবহারযোগ্য অস্ত্র: কয়েক হাজার ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ মিসাইল এখনো ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরির সক্ষমতা রাখে।
২. সুরক্ষার বিশেষ কৌশল
ইরানের এই সক্ষমতা টিকে থাকার মূল কারণ হিসেবে তাদের মাটির গভীরে বিস্তৃত টানেল নেটওয়ার্ক এবং পাহাড়ের গুহায় অস্ত্র লুকিয়ে রাখার কৌশলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হামলা কমে যাওয়ার অর্থ মজুত ফুরিয়ে যাওয়া নয়; বরং ইরান তাদের অবশিষ্ট সম্পদ মাটির নিচে সুরক্ষিত রেখে যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন করেছে।
৩. ক্ষয়ক্ষতি বনাম বর্তমান বাস্তবতা
- হামলার পরিসংখ্যান: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইরানের ১২ হাজার ৩০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। পেন্টাগন দাবি করছে, যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা ৯০ শতাংশ কমে এসেছে।
- নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি: শীর্ষ নেতা আলী খামেনি ও আলী লারিজনি নিহত হওয়ার মতো বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ইরান।
- নৌ-শক্তি: ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস হলেও রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হাতে এখনো শত শত ছোট বোট এবং চালকবিহীন ড্রোনবাহী জাহাজ রয়েছে।
৪. রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে সামরিকভাবে কোণঠাসা এবং তাদের সামনে সমঝোতা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষ করতে চান, তবে অনেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা একে অবাস্তব মনে করছেন। কারণ, ইরানের মোবাইল লঞ্চারগুলো খুঁজে বের করে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন, যা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
সার্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক সাফল্য দাবি করলেও, ইরানের অবশিষ্ট সক্ষমতা এখনো এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।



















