টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও চলমান উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা চালু রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই, ২০২৬) রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, পরীক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য এবং সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাদের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও মানসিক প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশজুড়ে ২,৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্যাদুর্গত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা ইতিমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেই বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করেন যে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কোথাও কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষা দিতে না পারে, তবে তারা পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল থাকায় শিক্ষার্থীবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে সবাইকে পূর্ণ নম্বর (ফুল মার্কস) দেওয়া হবে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ভাইরাল হওয়া ছবি প্রসঙ্গে তিনি জানান, কুমিল্লা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে কেবল এই একটি কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়েছিল, যার প্রেক্ষিতে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিয়ে পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয়। মুষ্টিমেয় কিছু কেন্দ্রের অনাকাঙ্ক্ষিত ছবি ও ভিডিও দিয়ে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অপপ্রচার ও রাজনৈতিক উসকানি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ড. মাহদী আমিন শিক্ষার্থীদের সব ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা পেছনে ফেলে মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন।



















