বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকা থেকে পাঠানো অনুরোধটি বর্তমানে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই, ২০২৬) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
ব্রিফিং চলাকালীন এক সাংবাদিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে, শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে আবারও নতুন করে অনুরোধ করা হয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে কি না। তা ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে বিষয়েও ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। এই প্রশ্নের সরাসরি জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে প্রত্যর্পণের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেয়েছি। আমরা আগেও যেমনটি উল্লেখ করেছিলাম, এই অনুরোধটি বর্তমানে আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, সংশ্লিষ্ট আইনগত ধারা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকেই এই প্রত্যর্পণের অনুরোধটি বিবেচনা করা হবে।”
একই ব্রিফিংয়ে অন্য এক সাংবাদিক বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো আরেকটি পৃথক প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন যে নির্বাচনে প্রাক্কালে একজন রাজনীতিবিদকে হত্যার অভিযোগে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে থাকা এক ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে; এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী? এই প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল জানান যে, সুনির্দিষ্ট এই দ্বিতীয় ঘটনাটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা নেই। তবে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো দেশের পক্ষ থেকে আসা প্রত্যর্পণের যেকোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধই মূলত সম্পূর্ণ আইনগত বিষয় এবং সুনির্দিষ্ট বিচারপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখেই সেটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।


















