বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে ব্যাপক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জাতীয় ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়নে মোট ১৩৩টি পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জনসহ দুটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণিতে নতুন চারটি বই যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিমার্জনের তালিকায় থাকা প্রধান বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ইতিহাস, বাংলা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়। শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন চারটি বইয়ের কাঠামো ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তুলতে আইসিটি বইয়ে প্রথমবারের মতো ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নতুন অধ্যায় সংযোজন করা হচ্ছে। এছাড়া নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ অধ্যায়ে প্রচলিত চার নেতার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও দেশের জন্য অবদান যুক্ত হচ্ছে বলে সমকালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের ৩৬টি পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরের মোট ৯৯টি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে ৯৭টি বইয়ের পরিমার্জন ও ইনডিজাইন সম্পন্ন করা হয়েছে। অত্যন্ত নির্ভুল ও মানসম্মত শিক্ষাক্রম উপহার দিতে প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ের জন্য ১৬০ জন এবং মাধ্যমিকের বইয়ের ক্ষেত্রে ২৫০ জন বিষয় বিশেষজ্ঞসহ মোট চার শতাধিক শিক্ষক, প্রথিতযশা সম্পাদক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ এই বিশাল পরিমার্জন কাজে দিন-রাত যুক্ত ছিলেন। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৩০ কোটি ৮৩ লাখের বেশি নতুন পাঠ্যবই মুদ্রণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি এবং মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২১ কোটি ২৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৩২ কপি বই ছাপানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে এই বিশাল বই মুদ্রণের কাজ শুরু হয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই তা শেষ করা হবে, যাতে নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া যায়।
এনসিটিবির সম্মানিত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা পাঠ্যপুস্তকের এই বৃহৎ পরিবর্তনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান, “ইতিমধ্যে ১৩৩টি বইয়ের পরিমার্জন ও ইনডিজাইনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া চারটি বইয়ের বিষয়বস্তু ও কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজও শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি বই একাধিক ধাপে কঠোরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে, কারণ আমরা চাই শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ নির্ভুল, মানসম্মত ও বর্তমান সময়ের সাথে উপযোগী বই হাতে পাক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছে দিতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।”


















