সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ও ফ্যাসিবাদী ধারার অবসানের লড়াই। তরুণ প্রজন্মের কাঙ্ক্ষিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ ২.০’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে, কারণ পরিবর্তন হলে তাদের দীর্ঘদিনের অপকর্ম ও দুর্নীতির পথ বন্ধ হয়ে যাবে। ভাষণের শুরুতে তিনি জুলাই বিপ্লব ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির তাঁর ভাষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন:
- সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অসম্পূর্ণ সংস্কারগুলো স্থায়ী রূপ দিতে এই গণভোট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
- সুশাসন ও ইনসাফ: জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সততা, সুশাসন ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
- নারীর মর্যাদা ও সংখ্যালঘু অধিকার: নারীদের সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে সমান মর্যাদা প্রদান এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মীয় সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ ছাড়াও তিনি তাবলিগ জামাতসহ সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীর স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের নিশ্চয়তা দেন।
- বৈদেশিক নীতি: জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমমর্যাদার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়া এবং রোহিঙ্গা সংকটে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান তরুণদের মেধা ও প্রযুক্তি জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগের বিষয় নয়, বরং এটি একটি মহান আমানত। ভাষণের শেষে তিনি একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দেশবাসীর সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন।



















