হট ফেভারিট হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু করা দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স টুর্নামেন্টে নিজেদের নামের প্রতি শতভাগ সুবিচার করে চলেছে। বিশ্বকাপের প্রথম হাই-ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা। ম্যাচের শুরু থেকেই উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর চেয়ে আক্রমণে বেশ এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। ফরাসি ফরোয়ার্ডদের একের পর এক ধারালো আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়লেও প্রথমার্ধে মরক্কোকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন তাদের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। ম্যাচের ২৬ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল নিয়ে মরক্কোর ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে, যেখানে তাঁকে থামাতে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। তবে এমবাপ্পের নেওয়া দুর্বল পেনাল্টি শটটি অনায়াসে ঠেকিয়ে দিয়ে ফ্রান্সকে গোলবঞ্চিত করেন বুনু। এরপর ৩৬ মিনিটে দেজিয়ে দুয়ের শট আটকে এবং প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে লুকাস দিনিয়ের দুর্দান্ত শট ক্রসবারে লাগলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যেতে হয় ফ্রান্সকে।
দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পে-ডেম্বেলে ম্যাজিক ও মেসির রেকর্ড স্পর্শ
বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় ফরাসিরা। ম্যাচের ৬০ মিনিটে অবশেষে ডেডলক ভাঙেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বক্সের কাছাকাছি জায়গা থেকে দারুণ এক কোণাকুণি শটে বল জালে জড়িয়ে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের ৮ম গোল, যার মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে এমবাপ্পের ২০তম গোল, যা বিশ্বমঞ্চে শীর্ষে থাকা মেসির (২১ গোল) চেয়ে মাত্র ১ গোল কম। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত করেন উসমান ডেম্বেলে। ডি-বক্সের ভেতর জটলার সুযোগ নিয়ে ঠান্ডা মাথায় স্কোরশিটে নাম লেখান তিনি, যা চলতি বিশ্বকাপে তাঁর পঞ্চম গোল। শেষ পর্যন্ত মরক্কো আর কোনো গোল শোধ করতে না পারলে ২-০ ব্যবধানের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান রানার্স-আপরা।


















