টানা কয়েকদিনের অতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের কারণে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগরে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাদের পাঁচ বছরের শিশু সন্তান এবং অপর একটি পরিবারের স্বামী-স্ত্রী রয়েছেন। বান্দরবান জেলার পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) সকালে সংবাদ মাধ্যমকে এই ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লামার একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ তৎপরতায় ইতোমধ্যে সকলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে মিশনপাড়ায় দুটি পৃথক দুর্ঘটনা ও হতাহতের বিবরণ
স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোররাতে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুটি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- প্রথম দুর্ঘটনা (ভোর ৪:০০টা): মিশনপাড়া এলাকায় প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ ধসে একটি কাঁচা বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য মাটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতরা হলেন—মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের একমাত্র শিশু সন্তান মো. সোলেমান (৫)। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সহায়তায় মাটি কেটে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
- দ্বিতীয় দুর্ঘটনা (ভোর ৫:৪০টা): প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই এলাকার আরেকটি একতলা পাকা ঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে ঘরের দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় এক দম্পতি প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন—মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)। স্থানীয় জনগণ, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘ চেষ্টার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঝুঁকি বাড়লেও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহ: প্রশাসনের তৎপরতা জোরদার
জেলা পুলিশের বিশেষ পর্যবেক্ষণে সতর্ক করা হয়েছে যে, পার্বত্য বান্দরবানে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন পাহাড়ি ঢালে ভূমিধস ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি জেলার নতুন নতুন নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়া, সাধারণ জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়া এবং প্রধান প্রধান সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কঠোর সতর্কবার্তা সত্ত্বেও পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করা অনেক বাসিন্দা এখনো সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে যেকোনো মূল্যে জানমালের ক্ষতি এড়াতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে তাদের উদ্ধার প্রচেষ্টা ও মাইকিং অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে লামা উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও দুর্যোগ পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী সকলকে অনতিবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।


















