সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনার এক তাণ্ডব বয়ে গেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লায়, যেখানে পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়লে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেটে সিগন্যাল ম্যানের অবহেলা এবং সময়মতো ৯৯৯-এ সাড়া না পাওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে হতাহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এদিকে ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাস ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেও এসেছে মৃত্যুর খবর। নাটোরে বিয়ের ঠিক আগের দিন বরের মৃত্যু এবং কুড়িগ্রামে অটোরিকশার ধাক্কায় ১১ বছরের এক শিশুর প্রাণহানি এলাকাগুলোতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ, টেকনাফ, চট্টগ্রাম ও সুনামগঞ্জসহ অন্যান্য স্থানে মোটরসাইকেল ও বাস দুর্ঘটনায় আরও ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে চালকদের বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং পিচ্ছিল রাস্তার কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে ঈদের আনন্দ কাটিয়ে ফেরার পথে বা উৎসবের আমেজে থাকা মানুষগুলোই এই দুর্ঘটনার প্রধান শিকার হয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন প্রতিটি ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মর্মান্তিক এই প্রাণহানি সারা দেশে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।



















